এরা সভ্যতার নামে মানুষের হৃদয় ভাঙ্গে
~~অনুপম বড়ুয়া পারু
আমি শিমুল তুলোর মত উড়ছি
পাখির মত ভাসছি,বাতাসের মত ছুটছি।
আমি এক অশ্বারোহী
ছুটে চলি,দিগন্ত ভেঙে ছুটে চলি অজানা উদ্দেশ্যে
মৃত মানুষের ছায়া আমায় কখনো স্পর্শ করেনি
আমি দিগন্তবলয় থেকে বের হয়ে চন্দ্র কক্ষপথ অতিক্রম করেছি
আমার পকেটে কোন প্রেম জমা নেই
আমার বুকে লেগে আছে পাখির পালক
তবুও মানুষের খারাপ দিন কেটে যাক
বহুদিন মানুষের মনে শান্তি নেই
বহুদিন মানুষের, যুদ্ধের বিরতীতে ঘুম ভেঙে যায়
আমি উড়ছি আর উড়ছি ছায়াপথ ছাড়িয়ে কোন এক সৌরমন্ডল গলিয়ে আমি সৃষ্টির বলয় থেকে বেড়িয়ে গেছি
আমার কোন জীবন নেই, আমার কোন মরণ নেই
আমি জীবন মরণের খেলা থেকে অনেক দূরে সরে গেছি
আমি বিপ্লবের গন্তব্য ভুলে রোমান্টিক এক রসায়ণে মিলেছি
এখানে কোন পাহাড় নেই, নেই রাশি রাশি জলের সমুদ্র
এখানে পাখির ঝাঁক নেই, কৃষকের জমি নেই
এখানে আছে নপুংসক কোন এক মহাকালের বয়েসী বটবৃক্ষ
জীবনের মায়া ছেড়ে দিয়েছি আমি
এই মাংসের জীবনে কি লাভ
যারা লাভ বুঝে গেছে তারা একা হয়ে গেছে
যারা পাকস্থলীর মযাদা বুঝে গেছে
তারা আর মানুষের সাথে নেই
এই ঋণের ক্ষুধাতুর দেশে
শরীর তো এক মানুষের অভিশাপ
জীবনতো এক মানুষের এক ধরণের অপমান
জীবন ধুয়ে মুছে নাও মনের কালিমা
মানুষের অপমান দেখে সক্রেটিস কাঁদছে বৃক্ষের নিচে বসে
সুতোর প্যাচে লজ্জার বহর দেখাও
কাপড় তো সুতোর প্যাচ
টুল টেবিল থেকে যে শিক্ষা চুষে নিয়েছো
তা তো শিক্ষা নয় মুদ্রার মাদুলী
অনাদিকাল মানুষ নিজেকে সভ্য ভেবে
নিজেকে মিথ্যে জয় করে নিয়েছে
পরের খেয়ে পরকেই পরাজিত করেছে
সভ্যতার লিপষ্টিক মেখে ভেতরে সেজে আছে ভেঁড়া
এরা সভ্যতার নামে মানুষের হৃদয় ভাঙ্গে।
৩১/৬/২৪
গাবতল,চান্সগাঁও,চট্টগ্রাম