বৃহস্পতিবার | ২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |৬ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি September 17, 2026, 7:27 pm

দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ান বিপর্যয়ে জীবন সংগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : রবিবার, আগস্ট ২৫, ২০২৪
  • 433 Time View

উজানে ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা ঢল ও কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টির কারণে বন্যায় দেশের ১২ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ।

গত শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণসচিব কামরুল হাসান। তিনি বলেছেন, ভারী বর্ষণ কমেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, উজানের ঢলের ওপর আমাদের হাত নেই। কিন্তু আমাদের নদীগুলোর নাব্যতা বাড়াতে পারলে সেই পানি দ্রুত নিচে নেমে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে মানুষের ভোগান্তি কমানো সম্ভব। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো দেশের নদীগুলোও মারাত্মকভাবে দূষণ ও দখলের শিকার। খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বরাবর কথাগুলো বলে এলেও কোনো সরকারই এ বিষয়ে কাজ করেনি। সময় এসেছে এসব দিকে নজর দেওয়ার।

তবে এ মুহূর্তে প্রধান কাজ বন্যাদুর্গত মানুষগুলোকে বাঁচানো। বিশেষ করে যারা পানিবন্দি হয়ে আছেন, তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে হবে। যারা ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন, তাদের খাবারদাবারের ব্যবস্থা করতে হবে ঘরবাড়িতে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত। এর পর প্রত্যেকের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে। বিশেষ করে যাদের ঘরবাড়ি ও কৃষি, মৎস্য খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহযোগিতা করছে। এবার তাদের সহায়তা করতে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ এগিয়ে এসেছেন। অনেক বোট সরবরাহ করেছেন। খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা দিতে বন্যাদুর্গত এলাকায় চলে গেছেন।

অজস্র মানুষ খোলা আকাশের নিচে দিনাতিপাত করছে। বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি, শিশুখাদ্য, ওরস্যালাইনসহ জরুরি ওষুধপথ্যের প্রয়োজন রয়েছে। লক্ষ করা প্রয়োজন, বন্যায় ইতোমধ্যে সরকারি হিসাবে ১৮ জন মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। আর একজন মানুষেরও যেন মৃত্যু না হয়। উদ্ধার কাজের পাশাপাশি ত্রাণসামগ্রী সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা জরুরি; বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত ওষুধপথ্য, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ নিশ্চিত করা দরকার। এখন আমাদের সবার কর্তব্য বন্যাদুর্গত মানুষগুলোর প্রতি সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।

তথ্যসূত্র<দৈনিক আমাদের সময়

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category