মঙ্গলবার | ২০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |২১শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি August 4, 2026, 7:45 pm

সবার হলফনামা থাকা দরকার — ড. সৈয়দ মন্জুরুল ইসলাম

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, জুন ২৭, ২০২৪
  • 611 Time View

সবার হলফনামা থাকা দরকার

— ড. সৈয়দ মন্জুরুল ইসলাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সৈয়দ মন্জুরুল ইসলাম বলেছেন, জনগণের করের টাকায় যারা বেতন পান তাদের সবার হলফনামা থাকা দরকার। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন করতে হলে দুর্নীতিবিরোধী যত ধরনের পদক্ষেপ রয়েছে তা গ্রহণ করা উচিত। একজন ব্যক্তির হলফনামার তথ্য যে কেউ জানার অধিকার রাখেন। এ তথ্য সরকার দিতে বাধ্য থাকবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলে শুধু আত্মতৃপ্তি পেলে চলবে না। ডিজিটাল বাংলাদেশের সব থেকে ভালো সুফল পাওয়া যাবে আইনের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে আইনের শাসন, প্রশাসনসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কর্মকান্ড স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনার মাধ্যমে। আশা করি সরকার এ প্রক্রিয়া শুরু করবে। এটি সময়ের দাবি। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

এ শিক্ষাবিদ বলেন, শুধু হলফনামা দিলেই সবাই ধোয়া তুলসী পাতা হয়ে যাবেন না। নির্দিষ্ট সময় পর পর একজনের আয় কতটুকু বেড়েছে বা কমেছে তা নিয়ে হলফনামা ধরে তদন্ত হওয়া উচিত। আয় অনুযায়ী একজন ব্যক্তি কর দিয়েছেন কি না- সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু আমলাদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। সুযোগ থাকলে অনেকেই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। আমাদের সমাজে দুর্নীতিগ্রস্তরা দুর্নীতি করে পার পেয়ে যান। যে দেশ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছে সেদেশে এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। যে দেশে আইনের শাসন নেই, যে দেশে দুর্নীতিকে উৎসাহিত করা হয়, যে দেশে দুর্নীতি করলে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়া যায়, যেখানে দায়বদ্ধতা বলতে কিছু নেই, জবাবদিহি-স্বচ্ছতা যেখানে অনুপস্থিত, আইনের শাসন যেখানে দুর্বল সেখানে অনিয়ম-দুর্নীতি হওয়াই তো স্বাভাবিক। দেশে সঠিক একটি কাঠামো যদি থাকা তবে কেউ দুর্নীতিতে জড়ানোর সাহস পেত না। আমাদের এমন পদ্ধতি থাকা দরকার যেখানে রাজনীতিবিদরা সততা দেখাবেন, নেতা-নেত্রীরা সততা দেখাবেন, তাহলে অন্য কেউ দুর্নীতি করার সাহস পাবে না।

 

ড. সৈয়দ মন্জুরুল ইসলাম আরও বলেন, এ দেশে যারা আইন প্রণয়ন করেন তারাই তো আইন মানেন না। কাগজে দেখেছি, একজন সংসদ সদস্য, যিনি আইনপ্রণেতা তিনি স্বর্ণ চোরাকারবারিতে জড়িয়ে খুন হলেন। চোরাকারবারি কীভাবে একাধিকবার সংসদ সদস্য হলেন? আইনপ্রণেতারা অস্বচ্ছ থাকলে আইন প্রয়োগও অস্বচ্ছ হবে, এটাই স্বাভাবিক। এ সমাজচিন্তক মনে করেন, দেশ দুর্নীতিমুক্ত করতে বিদ্যমান কাঠামো পরিবর্তন করে জনবান্ধব করতে হবে। এ কাঠামো মেরামতে সরকারের হাতে এখনো সময় আছে। অবিলম্বে সরকারের এ প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তথ্যসূত্র<দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category