ডিজিটাল সঞ্চয় সেবাকে আরও বিস্তৃত করতে বিকাশ অ্যাপে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক (ইবিএল)। ফলে এখন থেকে ইবিএলের গ্রাহকেরাও ঘরে বসেই বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে সহজে মাসিক ডিপিএস (ডিপোজিট পেনশন স্কিম) খুলতে পারবেন। এর মাধ্যমে বিকাশের ডিজিটাল সঞ্চয় প্ল্যাটফর্মে মোট পাঁচটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবা যুক্ত হলো।
বিকাশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের কাছে সঞ্চয় সেবাকে আরও সহজ ও সুবিধাজনক করে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন এই সেবার আওতায় গ্রাহকেরা ৬ মাস, ১ বছর, ২ বছর, ৩ বছর কিংবা ৪ বছর মেয়াদে ডিপিএস খুলতে পারবেন। প্রতি মাসে ন্যূনতম ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জমা রাখার সুযোগ থাকবে।
ডিপিএস চালু করতে গ্রাহকদের বিকাশ অ্যাপের হোমস্ক্রিন থেকে ‘সেভিংস’ অপশনে গিয়ে ‘নতুন সেভিংস’ নির্বাচন করতে হবে। এরপর ‘সাধারণ সেভিংস’ বেছে নিয়ে মেয়াদ ও মাসিক কিস্তির পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। তারপর আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তালিকা থেকে ‘ইস্টার্ন ব্যাংক’ নির্বাচন করে নমিনির তথ্য দিয়ে পিন নম্বরের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করা যাবে। আবেদন সফল হলে গ্রাহক একটি নিশ্চিতকরণ বার্তা পাবেন।
গ্রাহকের বিকাশ অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স থাকলে নির্ধারিত তারিখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিপিএসের কিস্তি কেটে নেওয়া হবে। মেয়াদ শেষে মুনাফাসহ জমাকৃত অর্থ সরাসরি গ্রাহকের বিকাশ অ্যাকাউন্টে যোগ হবে। পরবর্তীতে ক্যাশ আউট চার্জ ছাড়া এই অর্থ উত্তোলন করা যাবে। এছাড়া প্রয়োজনে মেয়াদ পূর্তির আগেই অ্যাপের মাধ্যমে ডিপিএস বন্ধ করার সুবিধাও রাখা হয়েছে।
ইস্টার্ন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এম খোরশেদ আনোয়ার বলেন, এই ডিজিটাল উদ্যোগের ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে সঞ্চয় সেবা আরও দ্রুত ও সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। অন্যদিকে বিকাশের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আলী আহম্মেদ বলেন, ব্যাংক হিসাব বা কাগজপত্র ছাড়াই এখন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও সহজে সঞ্চয়ের আওতায় আসতে পারছেন, যা দেশের ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে আইডিএলসি ফিন্যান্সের মাধ্যমে বিকাশ এই ডিজিটাল সঞ্চয় সেবা চালু করে। বর্তমানে ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক এবং সর্বশেষ ইস্টার্ন ব্যাংক এই সেবার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
বিকাশের তথ্য অনুযায়ী, তাদের অ্যাপের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৬০ লাখের বেশি ডিপিএস অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৪ শতাংশ ডিপিএস খুলেছেন নারীরা। এছাড়া ব্যাংকিং সময়ের বাইরে ডিপিএস খোলার হার ৫৫ শতাংশ, যা থেকে বোঝা যায় গ্রাহকেরা নিজেদের সুবিধাজনক সময়ে ডিজিটাল সঞ্চয়ে বেশি আগ্রহী। বিকাশের এক জরিপে আরও দেখা গেছে, মেয়াদ শেষে ৯৬ শতাংশ গ্রাহক পুনরায় ডিপিএস চালু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।