
তার শেষ প্রতিপক্ষ ছিলেন আরেক গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব। বেলা সাড়ে ৩টায় দাবা বোর্ডের দুই পাশে দুই জিএম শুরু করলেন খেলা। ঘণ্টাদুয়েক পর খেলতে খেলতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান। পড়ে রইল ৬৪ ঘরের দাবার বোর্ড। বাংলাদেশের পাঁচ গ্র্যান্ডমাস্টারের দ্বিতীয়জন দাবাঙ্গন, ক্রীড়াঙ্গনকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। স্ত্রী তাসমিন সুলতানা লাবণ্য ও ছেলে তাহসিন তাজওয়ার জিয়ার পৃথিবীতে হঠাৎ নেমে এলো অসীম শূন্যতা।
শুক্রবার জাতীয় দাবা চ্যাম্পিয়নশিপের ১১তম রাউন্ডের খেলায় অংশ নিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দাবাকক্ষে আসেন জিয়া। আরেক গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীবের সঙ্গে বোর্ড নিয়ে বসেন খেলতে। খেলতে খেলতেই হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন জিয়া। সঙ্গে সঙ্গে তাকে রাজীবের গাড়িতে শাহবাগে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৫০ বছরে নিভে গেল বাংলাদেশের দাবার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ১৯৮৭ সালে উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার হিসাবে নিয়াজ মোরশেদকে পায় বাংলাদেশ। এরপর ২০০২ সালে দেশের দ্বিতীয় গ্র্যান্ডমাস্টারের খেতাব জেতেন ১৯৭৪ সালে জন্ম নেওয়া জিয়াউর রহমান। জিয়া গভর্নমেন্ট হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করেন। ১৯৯৩ সালে ফিদে মাস্টার ও আন্তর্জাতিক মাস্টারের খেতাব জিতেছিলেন। বাংলাদেশের দাবাড়ুদের মধ্যে জিয়াই ২০০৫ সালে সর্বোচ্চ ফিদে রেটিং (২৫৭০) অর্জন করেছিলেন। দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘আমার সঙ্গে জিয়ার কথা হয়েছে বৃহস্পতিবার। আক্ষেপ করে বলেছিল, দাবা চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিততে পারবে না। মনন রেজা নীড়ের সুযোগ বেশি।’
গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমানের মৃৃত্যুর খবর শুনে তার বাসায় ছুটে যান যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান এমপি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি। আরও শোক জানিয়েছেন, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা, দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাব উদ্দিন, এলিগ্যান্ট চেস একাডেমির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদা হক চৌধুরী মলি, বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান, হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান কোহিনুর, শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের মহাসচিব ইন্তেখাবুল হামিদ, কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম তুহিন, টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সহসভাপতি খন্দকার হাসান মুনীর, তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা, উশু ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন ও ক্যারম ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন লিয়নসহ অনেকে।
তথ্যসূত্র<দৈনিক যুগান্তর